April 20, 2026, 12:21 pm

চেয়ারম্যানকে পেটালেন ওসি!

চেয়ারম্যানকে পেটালেন ওসি!

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কুদ্দুসকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকিউর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসজানান, ‘গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মঠবাড়িয়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি বাজারে অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল বিক্রির অভিযোগ আবুল কাশেম নামের এক দোকানদারকে আটক করে পুলিশ। ত্রিশাল থানার এসআই মাসুদুর রহমান ও এনামুলের নেতৃত্বে পুলিশ এই অভিযান চালায়। পরে কাশেমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আমার ছেলে কামরুজ্জামানসহ (মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি) আরও কয়েকজন পুলিশের কাছে সুপারিশ করে। পরে পুলিশ টাকা দাবি করলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পোড়াবাড়ি বাজার কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমি নিজেও কাশেমকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করি।’

তিনি জানান, ‘এই ঘটনা মধ্যেই এসআই মাসুদ মোবাইল ফোনে ওসি জাকিউর রহমানকে জানান যে আমার ছেলে কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নিয়েছে। এই খবর পেয়ে ত্রিশাল থানা থেকে ফোর্স নিয়ে রাত ১০টার দিকে ওসি জাকিউর রহমান এসে গাড়ি থেকে নেমেই জনসন্মুখে আমাকে গালি দিয়ে চর থাপ্পর মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় এসআই মাসুদ ও এনামুলসহ ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য হামলা চালিয়ে আমাকে লাঠিপেটা, কিল-ঘুষি, বুকে পা দিয়ে লাথি মেরে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদেরও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করা হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘পুলিশের নির্যাতনের সময় আমার জামা কাপড় ছিঁড়ে যায়। শুধু লুঙ্গি পরা অবস্থায় আমাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। গাড়িতে তুলে নিয়ে পুলিশের পায়ের নিচে শুইয়ে বুট দিয়ে নির্যাতন করে। পরে সাবেক এমপি আবদুল মতিন সরকারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা থানায় আসার পর রাতেই আমাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।’ তিনি পুলিশের অমনাবিক নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবি করেছেন।

ত্রিশালের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারি আবদুল মতিন সরকার জানান, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে থানায় গিয়ে দেখতে পাই লুঙ্গি পড়া অবস্থায় ইন্সপেক্টর তদন্তের রুমে চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দস বসে আছেন। পরে ওসি জাকিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে আনা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধিকে জনসম্মুখে মারধর করা অমানবিক কাজ। অন্যায় করলে পুলিশ মামলা করতে পারে। কিন্তু এভাবে নির্যাতন করে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিয়েছেন।’ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান জানান, চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দসের ওপর পুলিশের নির্যাতনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।

নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে ওসি জাকিউর রহমান জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গেলে চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দসের ছেলে কামরুজ্জামান ও তার সহযোগীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। তার উপস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসকে থানায় আনা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা থানায় এসে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে চেয়ারম্যানকে নিয়ে গেছে।’

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামজানান, চেয়ারম্যানের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কী ঘটনা ঘটেছিল এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, আবদুল কুদ্দুস গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার বাম পায়ের গোড়ালির নিচের হাড়ে ফাটল আছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর